বিডি নিউজ পোর্টাল

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির চেয়ারে আবারও রাজনীতিবিদদের বসানোর প্রস্তাব, চটেছেন শিক্ষকরা

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগ বন্ধে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর পরিবর্তে এসব পদে সরকারি কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের দায়িত্ব দেওয়ার ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফিরতে শুরু করে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সম্প্রতি আবারও ওই পদে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি তুলেছে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট। জোটটির শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য। গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জোটের শতাধিক নেতাকর্মী শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে পুনরায় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগের দাবি জানান। পাশাপাশি, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা যেন অন্তত তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন, এমন প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়। এ দাবিকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পদটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি। তাদের মতে, অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্যসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সভাপতির দায়িত্বে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন। শিক্ষকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার মান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক অস্থিরতাও বেড়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে তারা শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।